স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তীব্র গ্যাস সংকট, সহনশীলতাহীন লোডশেডিং, বিদ্যুতের ঘনঘন দরবৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিলের দৌরাত্ম্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নাকাল সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘১১ দলীয় ঐক্য, যশোর জেলা’।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে যশোরের জেলা প্রশাসকের হাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
স্মারকলিপিতে জাতীয় জীবনের চলমান স্থবিরতার চিত্র তুলে ধরে উল্লেখ করা হয় যে, ধারাবাহিক জ্বালানি সংকট ও অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ জনগণের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে। তার ওপর ভিত্তিহীন ও অতিরিক্ত ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল সাধারণ গ্রাহকদের চরম ক্ষোভের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জনস্বার্থে স্মারকলিপিতে ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
-
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান ঘাটতি দূর করে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা;
-
বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় ও যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা;
-
অন্যায্য ভুতুড়ে বিল বাতিলসহ পূর্বে অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ পরবর্তী বিলে সমন্বয় অথবা ফেরত দেওয়া;
-
বাজার সিন্ডিকেট ও অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা;
-
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো; এবং
-
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রোধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপিতে অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান করে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করার জোর আহ্বান জানানো হয়। জোটের নেতারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, এই ১০ দফা বাস্তবায়িত হলে আমজনতার ওপর চেপে বসা অর্থনৈতিক চাপ কমবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।
যশোর জেলা ‘১১ দলীয় ঐক্য’-এর পক্ষে সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আবু জাফর ছিদ্দীকী স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিটি পেশ করা হয়। ছবি সংগৃহীত।
