স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘কাজী ফার্মস লিমিটেড’-এর ভুয়া কর্মকর্তা সেজে চুয়াডাঙ্গার এক খামার পণ্য সরবরাহকারীর প্রায় ৩৪ লাখ টাকা মূল্যের গমের ভূষি চতুরতার সাথে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট।
বিজ্ঞাপন
গত বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের পর যশোরের নাজির শংকরপুর এলাকা থেকে পাবনার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম এবং পুরাতন কসবা এলাকা থেকে দোদারিয়া গ্রামের খালেক সরদারকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটকদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পাবনার পুটে বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে খোয়া যাওয়া ৭৭ বস্তা গমের ভূষি, তা বিক্রির নগদ ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, ১টি মোটরসাইকেল, ২টি ল্যাপটপ, ৫১টি মোবাইল সিম এবং ৭টি হ্যান্ডসেট জব্দ করা হয়। তবে এ চক্রের অন্যতম সহযোগী আবুল বাসার নামের এক সদস্য আত্মগোপনে চলে যান।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার এজাহার সূত্রে প্রকাশ, গত ১৯ জুলাই প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিজেদের কাজী ফার্মসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চুয়াডাঙ্গার ‘মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনাল’-এর সত্ত্বাধিকারী মানিক কুমার আগরওয়ালের কাছ থেকে ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি ক্রয়ের চুক্তি করে। পরিকল্পনা মোতাবেক ২২ ও ২৫ জুলাই পৃথক পাঁচটি ট্রাকে করে মালামালগুলো পাঠানো হয়। এ সময় ভুয়া নিরাপত্তার জামানত, ভ্যাট ও পরিবহন খরচের কথা বলে বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কয়েক দফায় অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
পরবর্তীতে আসামিরা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছে অতিরিক্ত আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করলে তাঁর মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কাজী ফার্মসের স্থানীয় যশোর কার্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এমন কোনো অর্ডারি অর্ডার দেওয়া হয়নি এবং একটি প্রতারক চক্র সুকৌশলে এ জালিয়াতিটি চালিয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, যশোর সদরের চুরামনকাটি এলাকায় ট্রাক থামিয়ে সব গমের ভূষি আনলোড করে লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল; যার মোট বাজারমূল্য ছিল ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকা।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে পরিচালিত ঝটিকা অভিযানে দুই মূল অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে যুক্ত পলাতক অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

