স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলা জুড়ে মশার কামড়জনিত ডেঙ্গু এবং সংক্রামক হাম রোগের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত পৃথক দুটি স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী এবং ৪ জন হামের রোগী ভর্তি হয়েছেন।
যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ মো. শামসুল ফালাক স্বাক্ষরিত ডেঙ্গু প্রতিবেদন পর্যালোচনায় জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত যশোরে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫৩ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ২৩ জন রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮ জন ভর্তি হয়েছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে। এছাড়া অভয়নগরে ৫ জন, বাঘারপাড়ায় ২ জন, চৌগাছায় ২ জন, ঝিকরগাছায় ২ জন, মণিরামপুরে ২ জন এবং শার্শায় ২ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২৪ ঘণ্টায় কেশবপুর উপজেলায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি।
স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলায় নতুন কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ফলে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা আগের ২ জনেই স্থির রয়েছে। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে সর্বমোট ১০০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৭১৩ জন এবং জটিল শারীরিক অবস্থার কারণে মোট ৩৮ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যান্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ড. মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত ‘হাম রোগীর দৈনিক প্রতিবেদন’ অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর সদর ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪ জন নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ওই একই সময়ে ২ জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে আদ্যবধি জেলায় সর্বমোট ৯৭০ জন সন্দেহজনক হামের রোগী চিহ্নিত হয়েছেন এবং ৯৬৬ জন রোগী হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সফল চিকিৎসাসেবা শেষে ৭৪৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১ জন হাম রোগী। এ পর্যন্ত সংগৃহীত মোট নমুনার সংখ্যা ১০১টি এবং জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ রোধে বাসাবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জমানো পানি ফেলে দেওয়া, নিয়মিত মশার টাঙানো এবং শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি সংগৃহীত।
