চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :
মুক্তিপণের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ১৫ বছরের কিশোর মোঃ রাফিজ মিয়াকে অপহরণের পর নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা মামলার অন্যতম আসামী মোঃ শরিফুল ইসলামকে (৩৫) গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন হাবিবপুর মসজিদ মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খেজুরতলা বাজারপাড়ার মৃত মুরজুল হকের ছেলে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গার চিলাভালকী গ্রামের আমেনা খাতুনের নাতি রাফিজ মিয়াকে অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তরা কৌশলে ফোনে ডেকে নিয়ে নির্জন স্থানে আটকে রাখে। ওই রাতেই রাফিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে পরিবারকে কল দিয়ে নির্যাতনের চিত্র শুনিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং পুলিশকে জানালে জবাইয়ের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে অপরাধীরা রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে রাফিজকে হত্যা করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ফেলে পালিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে (সংশোধনী ২০২৫) একটি মামলা দায়ের হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের (সিসিআইসি) উপ-পরিদর্শক আশিকুর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক মোঃ রজিবুল হক ও আরিফুল ইসলাম এবং আলমডাঙ্গা থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোঃ হোসেন আলীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে আসামি শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত উক্ত চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

