স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
পরীক্ষামূলক তদারকি পর্ব সফলতার সাথে শেষ হওয়ার পর আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির শুভ সূচনা করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কল্যাণমূলক সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে ডেটা বিশ্লেষণ ও প্রকৃত মূল্যায়নের ভিত্তিতে সুবিধাভোগীর এই পরিধি পরবর্তীতে আরও প্রসারিত হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
কিশোরগঞ্জ জেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সরাসরি এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ দেশের প্রতিটা উপজেলা ও ইউনিয়নে এই কার্ডের সার্বিক কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় নিশ্চিত করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি আধুনিক গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন (ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি) ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ফ্যামিলি কার্ড পরিচালনা করা হবে। নাগরিকদের বর্তমান আর্থিক অবস্থা যাচাই করে প্রতি মাসেই ডেটাবেজ আপডেট বা হালনাগাদ করা হবে। এতে কোনো ব্যক্তি দরিদ্রতা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে সচ্ছল হলে কিংবা নতুন করে কেউ দারিদ্র্যের শিকার হলে তা সাথে সাথেই সিস্টেমে যুক্ত হয়ে যাবে। স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ ঠেকাতে তিন স্তরের কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে, যার শীর্ষে তদারকি করবেন স্বয়ং অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বমুখী হয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত হকদারদেরই কেবল এ তালিকায় জায়গা দেওয়া হবে। এই সহায়তা তহবিলের অর্থ সরাসরি পরিবারের গৃহিণী বা নারী সদস্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে সেই অর্থ শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, গৃহপালিত পশু পালন কিংবা ক্ষুদ্র গৃহস্থালি উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নারীর স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে দেশের ৫৬টি অঞ্চলে পরিচালিত পাইলট প্রজেক্টে মাত্র ৩ শতাংশের কম ত্রুটি পাওয়া গেছে এবং যশোর ও নেত্রকোনার সামান্য কারিগরি ত্রুটিও পুরোপুরি সংশোধন করা হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নাবলীর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


