স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শা উপজেলায় স্থানীয় একটি বাঁওড় দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের শটগানের ছররা গুলিতে এক কিশোরসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী কন্যাদহ গ্রামে এ রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন— কন্যাদহ গ্রামের মৃত মতিয়ার গাইনের ছেলে শাহ আলম (৩৮), খলিল গাইনের ছেলে আব্দুল্লাহ (৩২), হাশেম গাইনের ছেলে মিঠু (৩০), বকুলের ছেলে শাকিল (১৫) ও আকবার আলীর ছেলে আকাশ (২০)।
বিজ্ঞাপন
আহতদের প্রথমে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত পৌনে ১০টার দিকে স্থানান্তরিত করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কন্যাদহ গ্রামের একটি সরকারি বাঁওড়ের নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এই পুরোনো শত্রুতার জের ধরে গতকাল বিকেলে একই গ্রামের নূর ইসলাম বদ্দীর ছেলে আশানুর (৪২), শাহজাহানের ছেলে ইমলু (৩৫), মৃত কোরমানের ছেলে শাহাজান (৫৫) ও মৃত মিজানুরের ছেলে সিরাজুল (৩৫)-সহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আহতদের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে আশানুর তাঁর কাছে থাকা শটগান বের করে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ছররা গুলির আঘাতে শাহ আলম, আব্দুল্লাহ, মিঠু, শাকিল ও আকাশ রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। গুলির বিকট শব্দে আশপাশের গ্রামবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান জানান, আহত প্রত্যেকের শরীরে শটগানের ছররা গুলির গভীর আঘাত রয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য রুবেল হোসেন জানান, রাতে গুলিবিদ্ধ ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোতোয়ালি থানা ও শার্শা থানাকে অবগত করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী কন্যাদহ গ্রামে এই গুলির ঘটনার পর থেকে চরম আতঙ্ক ও থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে এলাকায় পুলিশি টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

