স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর উপশহর শিশু হাসপাতালের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের মুখে বহুল বিতর্কিত পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে নতুন করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রাথমিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ডা. মেজবাউর রহমানের তত্ত্বাবধানে ও হস্তক্ষেপে এই সাময়িক কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘোষিত ৩ সদস্যের প্রাথমিক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ডা. প্রকাশ চন্দ্র সরকার, বিতর্কিত সাবেক কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া ডা. হামিম এবং ডা. জাহিদকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাময়িক এই কাঠামোর মাধ্যমে হাসপাতালের স্থবিরতা কাটিয়ে খুব শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। এখন হসপিটালে পরিচালনার সিদ্ধান্ত এই কমিটির তিনজন মিলেই নিবেন। এখন আর এককভাবে কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র সূত্রে জানা গেছে, এর আগে চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে ডা. হামিমের নেতৃত্বে একটি পরিচালনা কমিটি সক্রিয় ছিল। এই কমিটির বিরুদ্ধে পদ-পদবি অপব্যবহার, ব্যাপক দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির জোরালো অভিযোগ ওঠে। ডা. হামিম ঢাকার হেড অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে গোপন আতাত ও লবিং বজায় রেখে হাসপাতালে একক আধিপত্য বিস্তার করতেন বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ডা. হামিমের প্রত্যক্ষ মদদে বিতর্কিত একাধিক ব্যক্তিকে অনৈতিক পন্থায় হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে নিজের আপন ভাগ্নিসহ একাধিক স্বজনকে চাকরি দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত অনুপ ঘোষকে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ও ছত্রছায়া দিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে ফার্মেসী ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেন এই ডা. হামিম।
গতকাল মেজবাউর রহমানের হস্তক্ষেপে বিতর্কিত পুরোনো কমিটির অবসান ঘটায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নতুন এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপশহর শিশু হাসপাতালে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও পেশাদার সেবামূলক পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। ছবি সংগৃহীত।


