স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঝিকরগাছায় অটোভ্যানচালক ইখলাস হোসেনকে (২৯) চেতনানাশক খাইয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর কপোতাক্ষ নদে লাশ গুমের চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই ঘাতককে গ্রেপ্তারসহ ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন— ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (২৯) ও বিষহরি গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে আশরাফুল আলম।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞাপন
নিহত অটোভ্যানচালক ইখলাস হোসেন চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সানাউল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও ঘটনা সূত্র জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে অটোভ্যান নিয়ে ভাড়ায় চালনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি ইখলাস। পরদিন স্বজনরা চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ২২ সেপ্টেম্বর সকালে ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় কপোতাক্ষ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করলে নিহতের পরিবার ইখলাসের লাশ বলে শনাক্ত করে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে এবং ঝিকরগাছা থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইদ্রিস আলী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোল্লা রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের একটি চৌকস দল তদন্তে নামে। তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল বুধবার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর সহযোগী আশরাফুল আলমকে আটক ও ছিনতাইকৃত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশি অনুসন্ধানে জানা যায়, অটোভ্যানটি ছিনতাই করে বিক্রি করার লোভেই ঘাতকরা ইখলাসকে হত্যার ছক কষে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাকে পান করানো হয়। ইখলাস অচেতন হয়ে পড়লে গলায় ফাঁস দিয়ে ও পানিতে চুবিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর লাশ গোপন ও ডুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে শরীরে চারটি ইট বেঁধে কপোতাক্ষ নদের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা পুলিশি জিজ্ঞাসাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ দায় স্বীকার করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

