স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে বিদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পাচারকারী আন্তর্জাতিক চক্রের সক্রিয় এজেন্ট স্নিগ্ধ সিকদারকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর ৫টার দিকে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত স্নিগ্ধ সিকদার নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটী ইউনিয়নের বালিয়াট গ্রামের স্বপন কুমার সিকদারের ছেলে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সিআইডি সদর দপ্তর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
সিআইডি সূত্র জানায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিং চলাকালে সিআইডির সাইবার স্কোয়াড দেখতে পায় যে, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও ক্যাসিনো সাইটের লোভনীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে জুয়ায় প্রলুব্ধ করা হচ্ছিল। এসব জুয়ার সাইটে এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করত স্থানীয় এজেন্টরা। জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের পর এজেন্টদের নির্দিষ্ট কমিশন রেখে অবশিষ্ট বিশাল অংকের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি (Crypto) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হতো।
তদন্তে নেমে সিআইডি গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই চক্রের বাংলাদেশ অংশের অন্যতম প্রধান কো-অর্ডিনেটর সুমন রায়কে গ্রেপ্তার করে। সুমন রায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে তাঁর সহযোগী হিসেবে স্নিগ্ধ সিকদারের নাম-ঠিকানা ও অপরাধের বিবরণ প্রকাশ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, তেজগাঁও থানায় দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর মামলায় (মামলা নম্বর: ২০, তারিখ: ১৭ মে ২০২৬) অভিযুক্ত হিসেবে স্নিগ্ধ সিকদারকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনিও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, দেশের সর্ববৃহৎ এই অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে সিআইডি দেশজুড়ে টানা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আসছে। এ মামলার আওতায় ইতিপূর্বে টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল ও রাজশাহী থেকে সোলায়মান, সাগর মিয়া, জুয়েল রানা, রায়হান খান, পাভেল রহমান, আবু জোবায়ের সানি, জসিম উদ্দিন, সৈয়দ জামান, রুহুল কুদ্দুস বাপ্পী, বাবলু মিয়া, মনির হোসেন, নূর সাফায়েত ও শামীম আল মামুনসহ মোট ১৫ জন হাই-প্রোফাইল এজেন্টকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনলাইন জুয়ার মাস্টারমাইন্ড, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন ও হুন্ডি পাচারকারীদের বাকি সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষকে কোনো প্রকার অনলাইন জুয়া বা প্রলোভনে পড়ে ই-ট্রানজেকশনে অর্থ লেনদেন না করার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। ছবি সংগৃহীত।

