স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও একটি বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং মালামাল বিনাশের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় থাকা একটি পরিবারের সুরক্ষার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে আসামিরা অধরা থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. হারুন অর রশিদের (৬২) পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর ছোট ভাই ও ৪ নম্বর নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাশিমপুর বাজারে আগের একটি লেনদেন সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদের ভাই তুহিন বাবুর সঙ্গে স্থানীয় আওয়াল হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা মানেনি প্রতিপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগে বলা হয়, উক্ত বিরোধের জের ধরে একরামুল হোসেন, আওয়াল হোসেন ও সাকিলসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রামদা, লোহার পাইপ ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাশিমপুর বাজারে অবস্থিত ‘মেসার্স নাজির বিশ্বাস স্টোর’ ও ‘মেসার্স সোনা ভ্যান স্টোর’-এ ভাঙচুর চালিয়ে বিপুল টাকার ক্ষতি সাধন করে। শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসীরা পরবর্তীতে হারুন অর রশিদের বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে ঢুকে তাণ্ডব চালায় এবং স্বজনদের মারধরের চেষ্টা করে। আশপাশের লোকজন ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সটকে পড়ে।
ঘটনার পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানায় অপরাধীদের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ। তবে অভিযোগের এতদিন পার হলেও পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উল্টো আসামিরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে ওই পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং অসহায় পরিবারটির জানমালের সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদের ছোট ভাই তুহিন বাবু, চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

