স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার প্রান্তিক ও সামাজিক সুবিধা-বঞ্চিত নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে, ঝরে পড়া রোধে শিক্ষা সহায়তা প্রদান এবং নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে এক বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) যশোর সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সুসংগঠিত অনুষ্ঠানে দরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন, শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও নগদ শিক্ষাবৃত্তি এবং স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নত ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
উক্ত জনকল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেকোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলস্রোতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নৃগোষ্ঠীর কোনো শিক্ষার্থী যেন অর্থাভাবে পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং নারীরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, তার জন্য সরকারি এই সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।”
তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশের উন্নয়ন ভাবনার ধারাবাহিকতা স্মরণ করে বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রান্তিক মানুষের স্বাবলম্বিতার গোড়াপত্তন হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসননামলে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, নারী উপবৃত্তি এবং ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচির মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ শিক্ষার হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও যুক্ত করে বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নারী, যুবসমাজ ও প্রান্তিক মানুষের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”
অনুষ্ঠানে সরাসরি উপকারভোগী শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বাইসাইকেল ও নগদ অর্থ এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সেলাই মেশিন হস্তান্তরিত হয়। বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে জানায়, এখন থেকে স্কুলে যাতায়াত সহজ হবে; অন্যদিকে সেলাই মেশিন পাওয়া নারীরা ঘরের কাজের পাশাপাশি আয়ের নতুন পথ খোঁজার আশা প্রকাশ করেন।
যশোর সদর উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী এবং স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।


