স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন পূর্ব বারান্দী মোল্যাপাড়া এলাকায় ২০২১ সালে সংঘটিত বহুল আলোচিত আব্দুর রহমান কাকন (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. সানি (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), যশোর জেলা শাখা।
বিজ্ঞাপন
আজ ২৫ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার রাত ১টা ২০ মিনিটে যশোর কোতোয়ালী থানাধীন উপশহর শফিউল্লাহ মোড় এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সানি কোতোয়ালী থানার বারান্দীপাড়া মেঠো পুকুরপাড় চাতাল সংলগ্ন এলাকার ভাসমান বাসিন্দা মৃত মো. রিয়াজ হোসেনের ছেলে।
বিজ্ঞাপন
সিআইডির এজাহার ও তদন্তের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে ভিকটিম আব্দুর রহমান কাকন ব্যবসার কাজে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। একই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ৪১ মিনিটে পূর্ব বারান্দী মোল্যাপাড়া কবরস্থানের পাশে নারায়ণের চায়ের দোকানের ভেতরে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁর বুকের বাম পাশে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাকনকে মৃত ঘোষণা করেন।
উক্ত মর্মান্তিক ঘটনায় ভিকটিমের মা মোছা. সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৫১, ধারা-৩০২/৩৪, তারিখ: ১৮/১১/২০২১) দায়ের করেন।
পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার সিআইডি, যশোর জেলা ইউনিট গ্রহণ করে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের শনাক্তে ছায়াতদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে জিতু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিতু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে, যেখানে সে কাকন হত্যাকাণ্ডে শফি, সাদ্দাম মোল্লা ও মো. সানির সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশ করে।
জবানবন্দি ও সিআইডির নিজস্ব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে সানির প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সত্যতা মিললেও ঘটনার পর থেকেই সে ছদ্মবেশে পলাতক ছিল। অবশেষে দীর্ঘ তদারকি ও সোর্সের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির একটি চৌকস দল উপশহর শফিউল্লাহ মোড় থেকে সানিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কড়া পুলিশি প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট প্রস্তুত করতে সিআইডির তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


