স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় চুল কাটার বকেয়া টাকা ও নেশার বায়না চাওয়াকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র মনিঋষি (৪৩) নামের এক সেলুন ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে দোকান ও পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি ওই নরসুন্দরের। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার জামিরদিয়া নোমান গেট এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত রবীন্দ্র মনিঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার রঞ্জিত মনিঋষির সন্তান। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় কাসেমের বাড়িতে ভাড়া থেকে নিজস্ব সেলুনে নরসুন্দরের কাজ করতেন। অভিযুক্ত ঘাতক সাদ্দাম হোসেন (২৬) একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রবীন্দ্রর সেলুনের পাশেই অভিযুক্ত সাদ্দামের বাবার একটি মুদিদোকান রয়েছে। ঘটনার দিন চুল কাটার পাওনা টাকা এবং মাদক সেবনের জন্য নিয়মিত চাঁদার মতো টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে সাদ্দামের সঙ্গে রবীন্দ্রর কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাদ্দাম হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে সেলুনের ভেতরেই রবীন্দ্রের বুক ও গলায় উপর্যুপরি আঘাত করেন।
বিজ্ঞাপন
প্রাণ বাঁচাতে রবীন্দ্র রক্তাক্ত অবস্থায় সেলুন থেকে পালিয়ে সাদ্দামের বাবার মুদিদোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু ঘাতক সাদ্দাম সেখানেও তাকে ধাওয়া করে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। এরপর সেখান থেকেও কোনমতে প্রাণ বাঁচিয়ে পাশের একটি বাড়ির উঠানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে ঘাতক তাকে ধরে ফেলে আবারও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে নিশ্চিত মৃত্যু ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের স্ত্রী সূচিত্রা রানী ঋষি অভিযোগ করে জানান, অভিযুক্ত সাদ্দাম প্রায়ই জোরপূর্বক নেশার জন্য তার স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং সেলুনে চুল কাটিয়ে কখনো কোনো টাকা পরিশোধ করতেন না। এর প্রতিবাদ করায় এর আগেও সাদ্দাম তার স্বামীকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এছাড়া ঘটনার রাতেই অভিযান চালিয়ে জামিরদিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

