স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাটিবোঝাই ডাম্প ট্রাকের পেছনে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ৪জন নিহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাসটিতে থাকা তিনজন নারীসহ অন্তত ১৮ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) ভোরের দিকে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।
নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তারা হলেন— কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার আলমগীর হোসেন (৪৫), মোজাফফর হোসেন, তার বোন গোলাপী এবং দুর্ঘটনায় কবলিত বাসটির হেলপার আপেল।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার ফজরের নামাজের পরপরই বৈরাগীগঞ্জ শাহ আমানত পেট্রল পাম্পের বিপরীত দিকের মাজার মসজিদের সামনে মাটিবোঝাই একটি ডাম্প ট্রাক মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী ‘খান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়ানো ওই ডাম্প ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের সামনের অংশটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই একজন যাত্রী মারা যান।
খবর পেয়ে বড়দরগা হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় এলাকাবাসী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। বাসটির ভেতর থেকে রক্তাক্ত ও আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরবর্তীতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম উদ্দিন জানান, দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালায়। ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার আব্দুল জলিল জানান, মিঠাপুকুরের বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় সংঘটিত এই বাস-ট্রাক সংঘর্ষের ঘটনায় মোট চারজনের মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষ করে নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

