স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
চুয়াডাঙ্গা জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং ২৬টি বিচারাধীন মামলা ও একটি সাজাপ্রাপ্ত মামলার পলাতক আসামি মো. পিয়াল আহম্মেদ ওরফে পিয়াল মাহমুদ সাদ্দামকে (৩৪) বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে আলমডাঙ্গা থানাধীন মিয়াপাড়া ক্যানালপাড়া এলাকার জনৈক কুদ্দুসের বাড়ির পেছনে শমসের মল্লিকের ডোবা পুকুরের উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে পিয়াল সাদ্দামকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে ২০৩ পিস মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল আহম্মেদ আলমডাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্লভপুর এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিয়ালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে আলমডাঙ্গা থানাধীন গোবিন্দপুর মাঠপাড়া গ্রামে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব একটি গোডাউনে আইনগত বিধি অনুযায়ী তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে গোডাউনের একটি টেবিলের নিচ থেকে বেশ কিছু ভয়ংকর দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৪ ইঞ্চি লম্বা ১টি লোহার চাপাতি, কাঠের বাটযুক্ত ১টি দেশীয় লোহার কুড়াল, ১০.৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের ২টি লোহার ছুরি, কাঠের বাটযুক্ত ২৪ ইঞ্চি লম্বা ১টি বড় লোহার ছোরা, স্টিলের বাটযুক্ত ৩৩ ইঞ্চি লম্বা ১টি বড় ছোরা এবং ৪৪.৫ ইঞ্চি লম্বা ১টি লোহার রড।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল সাদ্দামের বিরুদ্ধে এর আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধে ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর বাইরে বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআর-৪৪/২০ (আলমডাঙ্গা) নম্বর মামলায় আদালত তাঁকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। উক্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ছবি সংগৃহীত।
