কোটচাঁদপুরে ৬৯তম জোটা ও ৩০তম জোটির শুভ সূচনা

কোটচাঁদপুরে ৬৯তম জোটা ও ৩০তম জোটির শুভ সূচনা

রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) থেকে:

রেডিও তরঙ্গে ভেসে আসা বিশ্বের নানা প্রান্তের কণ্ঠস্বর এবং ইন্টারনেটের পর্দায় ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির স্কাউটদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে শুরু হয়েছে প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববন্ধন। উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে কোটচাঁদপুর সরকারি মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্কাউট গ্রুপের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ৬৯তম ‘জাম্বুরী অন দ্য এয়ার’ (জোটা) ও ৩০তম ‘জাম্বুরী অন দ্য ইন্টারনেট’ (জোটি)-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মো. মফিজুর রহমান।

উদ্বোধনী দিনে স্কাউট লিডার ও শিক্ষকদের উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনায় স্কাউট পতাকা উত্তোলন এবং সমস্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এরপর স্কাউট সদস্যরা আধুনিক বেতার যোগাযোগের মাধ্যমে ‘জোটা’ এবং ডিজিটাল ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে ‘জোটি’ কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কাউটদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং তাদের ভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার এক অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, জোটা ও জোটি কেবল সাধারণ কোনো প্রযুক্তিনির্ভর অনুষ্ঠান নয়; এটি আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং বিশ্বনাগরিকত্ববোধের চর্চা করার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রেডিও যোগাযোগ ও ইন্টারনেটের সঠিক ও ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণ স্কাউটরা যেমন নিজেদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে পারছে, তেমনি বিশ্বকে নতুনভাবে জানার সুযোগ পাচ্ছে।

তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিদ্যালয়টির স্কাউট ও গার্ল-ইন-স্কাউট দলের সদস্যরা উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন। উৎসবের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্কাউটদের সঙ্গে বেতার যোগাযোগ স্থাপন, অনলাইন সংযোগের মাধ্যমে মতবিনিময়, বৈশ্বিক নানা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক বিনোদনমূলক পরিবেশনা।

সংশ্লিষ্টদের জোরালো প্রত্যাশা, এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ববোধ আরও বেশি বিকশিত হবে। ভৌগোলিক সীমানা ও দূরত্ব পেরিয়ে রেডিও তরঙ্গ ও ইন্টারনেটের এই সংযোগ তরুণ প্রজন্মের সামনে বিশ্বকে জানার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *