মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় নিজ বাড়ির সুপারি গাছ থেকে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট চরম পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে শৈলকুপা উপজেলার বহ্মপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মজিবুল ইসলাম (৪৫)। তিনি বহ্মপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ আলীর জ্যেষ্ঠ ছেলে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে মজিবুল ইসলাম নিজ বসতবাড়ির একটি সুপারি গাছ থেকে সুপারি পাড়েন। এ নিয়ে শনিবার দুপুরে তাঁর ছোট ভাই রবিউল ইসলামের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও চরম তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘাত চলাকালে ছোট ভাই রবিউল ইসলাম ভারী লাঠি দিয়ে বড় ভাই মজিবুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে রওনা হন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও আঘাতের কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মজিবুল ইসলাম। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরপরই ঘাতক ছোট ভাই রবিউল পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও উত্তেজিত এলাকাবাসী তাঁর স্ত্রী মিলি খাতুনকে অবরুদ্ধ করে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ভাই নিহতের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামির স্ত্রীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। মামলার মূল আসামি ঘাতক রবিউলকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযানে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। ছবি সংগৃহীত।

