মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কথিত এক ‘ভার্চ্যুয়াল বৈঠক’ ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী জুম প্ল্যাটফর্মে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দাবি করলেও পুলিশ এর কোনো সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। অন্যদিকে, এটিকে পুরোপুরি ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত ওই জুম মিটিংয়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা যুক্ত হন। বৈঠকে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন বলে তাঁরা দাবি করেন।
নেতাকর্মীদের আরও দাবি, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদটি শূন্য থাকায় সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি শামীম আরা মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে সংগঠন পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শামীম আরা মান্নান কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আবদুল মান্নানের সহধর্মিণী।
বিজ্ঞাপন
তবে বৈঠকটির সময় ও মাধ্যম নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি প্রকাশ পেয়েছে। কোনো সূত্র দুপুরের দিকে জুম মিটিংয়ের কথা বললেও অন্য একটি সূত্রে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ বৈঠক চলার কথা বলা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট স্থান ও প্রমাণ না থাকায় বৈঠকটির বাস্তব ভিত্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, “শেখ হাসিনা কালীগঞ্জের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জুম মিটিং করেছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি মূলতঃ জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চালানো এক ধরনের অপপ্রচার। বিষয়টি তদন্ত করে আসল সত্য উন্মোচন করা প্রশাসনের দায়িত্ব।”
ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার জুম মিটিং সংক্রান্ত একটি পোস্ট আমাদের নজরে এসেছে। তবে মিটিংটি কখন, কোথায় বা আদৌ অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না—সে বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খোঁজখবর নিয়ে দেখছে।”
এদিকে, কথিত এই ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব হোসেনসহ শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। ছবি সংগৃহীত।
