স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে পূর্বশত্রুতা ও লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুটি সক্রিয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং স্বজনদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় ঘটা এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে হাশিমপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম (৫৭) বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করছে ইছালী পুলিশ ক্যাম্প।
অভিযোগে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে হাশিমপুর বাজারে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছোট ভাই তুহিন বাবুর সঙ্গে এলাকার আওয়াল হোসেনের পূর্বের পাওনা টাকা ও লেনদেন নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। সে সময় বাজারের উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মধ্যস্থতা করে বিষয়টি তাৎক্ষণিক মীমাংসা করে দেন।
বিজ্ঞাপন
তবে অভিযোগকারীর দাবি, ওই বিবাদের জেরে কিছু সময় পর একরামুল হোসেন, আওয়াল হোসেন ও সাকিলসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি একদল দুর্বৃত্ত রামদা, গাছিদা, লোহার পাইপ ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নাজির বিশ্বাস স্টোর’ ও ‘মেসার্স সোনা ভ্যান স্টোরে’ আচমকা হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা দোকানে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে আসবাবপত্র, শোকেস ও দরজা-জানালা ভাঙচুর করে বিপুল টাকার ক্ষতিসাধন করে।
পরবর্তীতে হামলাকারীরা ক্ষ্যান্ত না হয়ে তাঁদের বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাধা দিলে ধারালো অস্ত্র ও লোহার পাইপ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করা হয়, এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। বর্তমানে পুরো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করে বলেন, “হামলাকারীদের অন্যতম সদস্য শাকিল আহমেদ এলাকার একজন চিহ্নিত মাদকসেবী ও সক্রিয় কারবারি। কিছুদিন আগে যশোর ডিবি পুলিশ তাকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। জেল থেকে জামিনে বের হয়ে সে পুনরায় এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।”
উক্ত সন্ত্রাসী হামলার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় আশরাফুল ইসলাম ও হারুনর রশিদসহ একাধিক ব্যক্তিকে সাক্ষী করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অন্তর্গত ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) জীবন কুমার জানান, হাশিমপুর বাজারে দোকান ও বাড়িতে হামলার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ছবি সংগৃহীত।
