স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
দেশব্যাপী ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ শক্তি এক হয়ে পরিকল্পিত নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁতারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “বর্তমান সরকার কোনো ভোট ডাকাতি বা ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি, এটি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকার। দেশবিরোধী অপশক্তির সকল চক্রান্ত দেশবাসীকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।”
আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত এক বৃহৎ প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠন যৌথভাবে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
সমাবেশে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, একটি গোষ্ঠী মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও নেপথ্যে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সচেতন জনতা তাদের কোনো ষড়যন্ত্রকেই সফল হতে দেবে না।
বিজ্ঞাপন
মাদক দমনে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। আগামীতে এ অভিযান আরও জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। সীমান্ত পার হয়ে জ্বালানি পাচার রোধের কার্যকর বিকল্প না থাকায় সরকারকে বাধ্য হয়ে কৌশলগত মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।
তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসন ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বাজার স্থিতিশীল হওয়ামাত্রই অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য কমানো বা পুনঃসমন্বয় করা হবে।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন— যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা কমিটির সদস্য কাজী আযম, সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আনজারুল হক খোকনসহ জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। ছবি সংগৃহীত।
