স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় একটি নিভৃত নির্মাণাধীন ভবনের ভেতর পরম যত্নে গড়ে তোলা অবৈধ গাঁজার বাগানের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে মোট ৪৫টি ছোট-বড় সতেজ গাঁজা গাছ জব্দের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত মাহফুজা বেগম নামের এক গৃহবধূকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের অন্তর্গত চাকলা গ্রামের মাঠপাড়া এলাকায় রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি আভিযানিক দল এ চাঞ্চল্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আটককৃত মাহফুজা বেগম উক্ত এলাকার বাসিন্দা সালমান হোসেনের স্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, চাকলা গ্রামের মাঠপাড়ায় সালমান-মাহফুজা দম্পতির নির্মাণাধীন বসতঘরের ভেতরে গোপনীয়তা রক্ষা করে নিষিদ্ধ মাদক গাঁজার বাণিজ্যিক চাষাবাদ ও নিবিড় পরিচর্যা করা হচ্ছে—এমন একটি গোপন সংবাদ আসে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কামাল হোসেনের কাছে।
সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় পুলিশের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চারপাশ ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায়। এ সময় নির্মাণাধীন ওই আধাপাকা ঘরের বিভিন্ন অংশে টবে ও মাটিতে রোপণ করা গোপন পরিচর্যায় থাকা বিভিন্ন আকৃতির ৪৫টি সতেজ তাজা গাঁজা গাছ উদ্ধার করে জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ওই নির্মাণাধীন ঘরের চারপাশ ঢেকে গোপনে দীর্ঘ দিন ধরে এই নিষিদ্ধ গাছের নিয়মিত যত্ন ও চাষ করা হচ্ছিল। মাদক প্রস্তুত ও সরবরাহের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা এই গোপন চাষের মূল যোগসাজশ থাকার অভিযোগে বাড়ির মালিক মাহফুজা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কামাল হোসেন অভিযানের সত্যতা সুনিশ্চিত করে জানান, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই তাৎক্ষণিক পরিচালনা করা হয়। লোকালয়ের ভেতরে এভাবে গাঁজা চাষের মতো ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত নারী ও তাঁর অনুপস্থিত সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট কঠোর ধারায় একটি নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনি সোপর্দ শেষে আগামীকাল আটক আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত।


