স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের পাল্লাবদ্ধ হামলায় এক ক্ষুদ্র পোল্ট্রি খামারির খামারে থাকা সব মুরগি নির্মমভাবে মারা পড়েছে। এতে উক্ত খামারির কয়েক লাখ টাকার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি সাধন হয়েছে এবং তিনি মারাত্মকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোররাতে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গদখালী ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারি বাবুপাড়া গ্রামের মোঃ শাহজাহান আলীর ছেলে আজিজুর রহমান লাল্টু।
বিজ্ঞাপন
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আবেগপ্লুত কণ্ঠে জানান, গভীর রাতে কোনো এক সময়ে ৮ থেকে ১০টির একটি হিংস্র বেওয়ারিশ কুকুরের দল তাঁর পোল্ট্রি খামারে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে। এরপর একে একে খামারে থাকা সবকটি মুরগিকে কামড়ে মেরে ফেলে। সকালে প্রতিদিনের মতো খামারে পরিচর্যা করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান পুরো খামারজুড়ে শত শত মুরগি রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর মাসব্যাপী নিবিড় পরিশ্রম ও স্বপ্নের করুণ সমাপ্তি ঘটে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাল্টু বলেন, “বিভিন্ন ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণ এবং নিজের শেষ সম্বল সঞ্চয়ের টাকা এক করে খামারটি দাঁড় করিয়েছিলাম। এক রাতের তাণ্ডবেই আমার সব শেষ হয়ে গেল। এখন পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধ কীভাবে করব আর কীভাবে পরিবার নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াব, তা ভেবে কিচ্ছু বুঝে উঠতে পারছি না।”
এদিকে এ ঘটনায় পুরো বাবুপাড়া গ্রামজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গদখালী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় অস্বাভাবিক হারে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ও হিংস্রতা বেড়েছে। এসব বেওয়ারিশ কুকুর কেবল গৃহপালিত পশুপাখি বা পোল্ট্রি খামারেই হানা দিচ্ছে না; রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ পথচারী, বয়োবৃদ্ধ ও কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তাকেও চরম হুমকির মুখে ফেলছে।
এ অবস্থায় অবিলম্বে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণীসম্পদ দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ছবি সংগৃহীত।


