স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
১৭ কোটি টাকা মূল্যের অমূল্য ধাতব পদার্থ প্লাটিনাম দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রায় ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক দুর্ধর্ষ প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম ঢাকার রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরিফুল ইসলাম নামের ওই যুবককে আটক করে। গ্রেফতারকৃত শরিফুল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার সূত্রপাত যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলায়। স্থানীয় এক সিটি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন মামুন নামে এক কর্মচারী। সেই কর্মচারীর সাথে আগে থেকেই পরিচয় ছিল শরিফুলের। কৌশলী শরিফুল ওই কর্মচারীকে জানান যে তাদের হাতে একটি দুর্লভ ধাতব পদার্থ এসেছে, যার বর্তমান বাজারদর প্রায় ১৭ কোটি টাকা। এটি গোপনে বিক্রি করার জন্য তারা একজন নির্ভরযোগ্য ক্রেতা খুঁজছেন। সরল বিশ্বাসে কর্মচারী মামুন বিষয়টি তার প্রতিষ্ঠানের মালিক সোহরাব হোসেন পিন্টুকে জানান।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে শরিফুল ও তার চক্রের সদস্যরা সরাসরি ব্যবসায়ী পিন্টুর বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে ভুয়া ক্রেতার সাথে ফোনে কথা বলিয়ে ধাতব পদার্থটি সংগ্রহের খরচ বাবদ ৭২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ১৭ কোটি টাকা বিক্রি শেষে একটি বিশাল লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেওয়া হয়। লোভনীয় এই অফারে বিশ্বাস করে ব্যবসায়ী পিন্টু ও কর্মচারী মামুন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ধার দেনা করে শরিফুলকে মোট ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন।
টাকা হাতে পাওয়ার পর ধাতু হস্তান্তরের কথা বলে বাদীকে সাতক্ষীরায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে শরিফুল একটি বন্ধ প্লাস্টিকের বাক্স বাদীর হাতে তুলে দিয়েই চম্পাট দেন এবং বাক্সটি বাড়িতে গিয়ে খোলার তাগিদ দেন। বাদী বাড়ি ফিরে কৌতূহল নিয়ে বাক্সটি খুলতেই চোখ কপালে ওঠে। ভেতরে কোনো বহু মূল্যবান বস্তু নয়, বরং একটি পুরোনো ইটের টুকরো রাখা ছিল।
তৎক্ষণাৎ নিজের ভুল বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পুলিশ সুপারের নির্দেশে সাইবার ক্রাইম দল আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতারকের অবস্থান সনাক্ত করে রাজধানী থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় রোববার ঝিকরগাছা থানায় প্রতারণা মামলা দায়েরের পর আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ছবি সংগৃহীত।

