বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিদ্যুতের খুটি বসানোর কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রিয়াজ সিকদারের বিরুদ্ধে। উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর ও দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামে এই চাঁদাবাজির ঘটনাটি ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের দিকনির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই দুই গ্রামের শতাধিক অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবারের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে বিদ্যুতের খুটি বসানোর কাজ শুরু করে। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য ইউপি মেম্বার প্রার্থী ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রিয়াজ সিকদার পরিবহনের দোহাই দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ২ হাজার টাকা করে আদায় করছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এমনকি নতুন মিটার সংযোগ দেওয়ার কথা বলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ২ হাজার টাকা পরিশোধের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দরিদ্র পরিবারগুলো।
বিজ্ঞাপন
কান্নাভেজা কণ্ঠে ভুক্তভোগী তহমিনা বেগম, সাহানাজ বেগম, রিয়াজ হাওলাদার ও জাহিদ ফরাজী জানান, নাকফুল বন্ধক রেখে, ধান চাষের জন্য অগ্রিম টাকা নিয়ে আবার কেউ সংসারের বাজার না করে তারা এই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ধার্যকৃত ২ হাজার টাকা দিতে না পারায় তাৎক্ষণিক বসানো খাম্বা তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১ হাজার টাকা দিলে পরদিন আবার তার বাড়ির সামনে খাম্বা বসানো হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রিয়াজ সিকদার চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করলেও শ্রমিকদের খাওয়ার খরচ বাবদ কিছু টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। অন্য সব অভিযোগ তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের সাব-ঠিকাদার সুমন দাবি করেন, যে টাকা নেওয়া হয়েছে তা গ্রাহকদের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারিভাবে চলমান এই কাজে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে লিখিত বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।


