স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের এক স্মরণীয় সফলতা অর্জিত হয়েছে। উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই (নিঃ) অলক কুমার দে, পিপিএম-এর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও চৌকস নেতৃত্বে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৪০০ পিস ইয়াবাসহ এলাকা কাঁপানো শীর্ষ মাদক কারবারি ও বহু মামলার আসামিসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযানে এসআই (নিঃ) অলক কুমার দে, পিপিএম-এর সাথে যৌথভাবে অংশ নেন এএসআই (নিঃ) মোঃ তুহিন ইসলাম, কনস্টেবল মোঃ মেজবাহ থান্দার, কনস্টেবল মোঃ ইকরামুল ইসলাম, কনস্টেবল রবিউল ইসলাম, কনস্টেবল গোলাম রহমান এবং কনস্টেবল শেখ রুবেল হোসেন।
বিজ্ঞাপন
গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি হলেন ৪ নম্বর নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বোলপুর (ঘোড়ার ডিমের বাড়ি সংলগ্ন) এলাকার মৃত মোসলেম মোল্যার ছেলে মোঃ জলিল (৫০)। স্থানীয়ভাবে তিনি পালবাড়ি, নওদাগা, ডাকাতিয়া ও পাগলাদাহ এলাকার প্রধান ইয়াবা ডিলার হিসেবে পরিচিত এবং মাদক সাম্রাজ্যে তাকে যশোরের ‘দ্বিতীয় মহিদুল’ বলা হয়ে থাকে। জলিলের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে।
তাঁর সাথে গ্রেফতার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন— বোলপুর গ্রামের মৃত জহির আলী বিশ্বাসের ছেলে মোঃ জাকির হোসেন (৪০), যার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ৫টি মামলা বিদ্যমান, নওদাগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ সোহান হাওলাদার (২০) এবং পুরাতন কসবা গাজীর ঘাট পালবাড়ি এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে গাউছুল ইসলাম রিকু (৩৪) যার বিরুদ্ধে ১টি মাদক ও ১টি নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রের এজাহার মারফত জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১:১০ ঘটিকার সময় উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের একটি টিম বোলপুর ব্রিজ এলাকায় টহল ডিউটিতে থাকাকালে গোপন সংবাদ পায় যে, বোলপুর গ্রামস্থ খলিলের বাড়ির উঠানে কতিপয় ব্যক্তি ইয়াবা কেনাবেচার জন্য অবস্থান করছে। রাত ১১:২০ ঘটিকায় এসআই অলক কুমার দে’র নেতৃত্বে পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারদিক থেকে চারজনকে ঘিরে ফেলে আটক করে।
পরবর্তীতে স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে জলিলের কাছ থেকে ২০০ পিস, জাকিরের কাছ থেকে ১৫০ পিস, সোহানের কাছ থেকে ৪০ পিস এবং রিকুর কাছ থেকে ১০ পিস— সর্বমোট ৪০ গ্রাম ওজনের ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করে যে, ঝিনাইদহের মহেষপুর এলাকার এক পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে তারা প্রতিদিন বিকেলবেলা এই ইয়াবা সংগ্রহ করে শহরের বিভিন্ন স্থানে খুচরা বিক্রি করে আসছিল।
উল্লেখ্য,ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটিই উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের একক অভিযানে সর্বোচ্চ পরিমাণ ইয়াবা আটকের অনন্য রেকর্ড। এসআই অলক কুমার দে’র ধারাবাহিক পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও অপরাধ দমনে এমন দ্রুত পদক্ষেপ স্থানীয় সচেতন মহল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরপূর্বক যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

