মহম্মদপুরে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় অতর্কিত হামলা : দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গৃহবধূসহ আহত ৫

মহম্মদপুরে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় অতর্কিত হামলা : দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গৃহবধূসহ আহত ৫

জাকির হোসাইন তুষার,মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর বাজারে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির প্রতিবাদ করায় অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মো. ফরিদ মোল্লা (৪৮)-এর মাথায় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আহত অন্যদের মধ্যে কয়েকজনকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের চেয়ারম্যান পাড়ায়, আকবর মোল্লা চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছাকাছি রাস্তার পাশে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে কাসেম ও তার বড় ভাই বদিয়ারের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার কারণে ওই এলাকায় সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকসেবীদের আনাগোনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক বিক্রির পাশাপাশি অভিযুক্তরা আশপাশের বাড়িঘরের নারী ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে উত্যক্ত এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার দিন বাড়ির সামনে এক মাদক ক্রেতার কাছে ইয়াবা বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ দেখে স্থানীয় যুবক ফরিদ মোল্লাসহ কয়েকজন সেখানে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে কাসেমের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কাসেম ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে রামদা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ।

হামলার একপর্যায়ে ফরিদ মোল্লার মাথায় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের আঘাতে এক নারীসহ আরও চারজন আহত হন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদ মোল্লার মাথার জখম গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অন্য আহতদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় হরেকৃষ্ণপুর এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর অভিযান ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকের বিস্তার রোধে কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাসেম ও বদিয়ারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *