মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
‘জ্ঞানচর্চায় বই পড়ুন, আলোকিত জীবন গড়ুন এবং প্রিয় মানুষকে বই উপহার দিন’—এই অমিয় বাণীকে সামনে রেখে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা।
বিজ্ঞাপন
আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন চত্বরে শুভ ফিতা কেটে এই পাঠোৎসবের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী। মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তা ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এ মেলার আয়োজন করেছে।
বিজ্ঞাপন
উদ্বোধনী পর্বে সভাপতির আসন ও অতিথিদের বক্তব্যে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রীসহ অন্যান্য গুণীজনেরা উল্লেখ করেন, “বই ক্রয় করে পৃথিবীর কেউ কোনো দিন দরিদ্র হয়নি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আধুনিক স্মার্ট যুগে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা মূল বই বা সৃজনশীল বই পড়া থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের সহজ পথ খোঁজার চেয়ে প্রকৃত আলোকিত মানুষ হতে হলে সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। ডিজিটাল যুগে যুবসমাজকে পুনরায় বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্য সম্মানীয় অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য ও উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মইমূর আলী মৃধা, কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. এম. এম. রইছ উদ্দিন, প্রবীণ সাহিত্যিক মো. ওসমান আলী এবং কবি ও সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ মিল্টন। পুরো আয়োজনটির সফল সঞ্চালনায় ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ মেলা ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী।
মেলা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলা আগামী মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় দেশের নামকরা সব প্রকাশনীসহ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নিজস্ব ১০ সহস্রাধিক রকমারি বই প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের জন্য রাখা হয়েছে। মেলায় স্থান পেয়েছে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, ইতিহাস ও ছোটদের চমৎকার সব বই। ছবি সংগৃহীত।

