মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘মুক্তিভবনে’ সংঘটিত ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে উপযুক্ত বিচারের আওতায় আনার দাবিতে ঝিনাইদহে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ দিন সন্ধ্যায় শহরের ব্যস্ততম এইচএসএস সড়ক থেকে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ব্যানার ও হাতে মশাল নিয়ে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ঐতিহাসিক ওয়াজির আলী স্কুল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি কমরেড স্বপন বাগচীর সভাপতিত্বে সমাবেশটি পরিচালিত হয়। সিপিবির জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপুর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ঝিনাইদহ জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম আসাদ।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো মূলত এ দেশের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার ওপর এক বড় আঘাত। দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সিপিবি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ঐতিহ্যবাহী এই দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন। এমনকি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতেও এই ‘মুক্তিভবন’ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
বক্তারা আরও স্পষ্ট করে বলেন, সিপিবির কার্যালয়ে যারা চড়াও হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন—এ ধরনের সহিংসতা সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এ দেশের সচেতন গণমানুষের আন্দোলন ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে বহু চড়াই-উৎরাই পার হয়ে সিপিবি আজ এ জায়গায় এসেছে। রক্তচক্ষু বা হামলা চালিয়ে দলটির নীতি ও আদর্শকে কখনো চেপে রাখা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।
সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলাকারী দুষ্কৃতকারীদের পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করায় কি না—তা দেশের আপামর জনগণ পর্যবেক্ষণ করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থানই বলে দেবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিবেশ কেমন হবে।
পরিশেষে, দেশে অবিলম্বে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সর্বস্তরের নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। ছবি সংগৃহীত।
