জাকির হোসাইন তুষার, মাগুরা প্রতিনিধি :
তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৬
মাগুরায় বহুল আলোচিত ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি এবং পরবর্তীতে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন (৩৬) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরেই যুবদল নেতা শাকেরকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে।
পৃথক দুটি মামলায় ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানকালে ডাকাতি হওয়া স্বর্ণের অংশবিশেষ (মোট ৬১ ভরি ৬ আনা), হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বুলেট, খালি কার্তুজ, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশের সরবরাহ করা তথ্যমতে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ৬ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে। মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসে পুলিশ পরিচয়ে ওঠে ১২ থেকে ১৫ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। তারা বাসে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে জোরপূর্বক নামিয়ে পাশের হলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
উক্ত ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)। তাদের হেফাজত থেকে ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি তেজাবি কাটা স্বর্ণের বার এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি টয়োটা ভিটজ কার ও দুটি মোটরসাইকেল (ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার) জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, এই ডাকাতির স্বর্ণ ভাগাভাগি নিয়ে চোরচক্রের দ্বন্দ্বে গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড় ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ‘রয়েল এক্সপ্রেস’ কাউন্টারের ভেতরে মোটরসাইকেলে এসে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিনাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শাকের হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ জেলাজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন— রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তাজা বুলেট, খালি কার্তুজ এবং ৫১.৯ ভরি ওজনের পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, দুটি মামলা মিলে সর্বমোট ৭১৬.৪৬ গ্রাম (৬১ ভরি ৬ আনা) চোরাই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলা তদন্তের বিষদ বিবরণ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)-এর সরাসরি দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থন্দর খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়। জোড়া এই অপরাধমূলক ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও বাঁকি স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।

