মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরা জেলার ঐতিহ্যবাহী মহম্মদপুর বাজারে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ্য বিচরণ, তাড়া করার প্রবণতা এবং কামড়ানোর মারাত্মক ঝুঁকিতে সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সকালের দিকে বাজারে আসা কেনাকাটাকারী, পথচারী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজারের গলি, প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন মোড়ে দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরগুলো অনেক সময় আকস্মিকভাবে পথচারীদের তাড়া করে। এতে শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও বাজারে আসা আমজনতার হঠাৎ দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এর মধ্যে কোনো কুকুরের আচরণ আক্রমণাত্মক হলে কিংবা কামড় দিলে প্রাণঘাতী জলাতঙ্ক রোগের ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়।
মহম্মদপুর বাজারের জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের অনুপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইয়াকুব ভাই। সকালে বাজারে আসা সাধারণ মানুষের চলাচলে এই অচলাবস্থা নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ও পরামর্শকে কেন্দ্র করে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের ইস্যুটি এখন পুরো মহম্মদপুরে আলোচনার শীর্ষে রূপ নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক একটি নিরাময় অযোগ্য অথচ শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত কুকুরের কামড় কিংবা গভীর আঁচড়ের মাধ্যমে সংক্রামিত হতে পারে। তবে সব বেওয়ারিশ কুকুরই যে জলাতঙ্ক ছড়ায়—এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে পাইকারি হারে কুকুর নিধন বা নির্যাতন না করে মানবিক ও আধুনিক গণ-টিকাদান এবং বন্ধ্যাকরণের মতো বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রতি তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
এমতাবস্থায়, মহম্মদপুর বাজার এলাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণীসম্পদ দপ্তরের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। একই সাথে ঝুঁকিপূর্ণ ও হিংস্র প্রাণী শনাক্তকরণ এবং সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকাদান ব্যবস্থা জোরদার করার জোর দাবি উঠেছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে কুকুর বা বিড়াল কামড়ালে বা আঁচড় দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতস্থানটি সাবান ও রানিং ট্যাপের পানিতে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন নিতে হবে। একই সাথে প্রাণীকে উত্যক্ত বা মারধর না করে প্রশাসনিক ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিমুক্ত, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক কেনাকাটার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মহম্মদপুর বাজারজুড়ে সুপরিকল্পিত টিকাদান অভিযান ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের সময়ের চরম দাবিতে পরিণত হয়েছে। ছবি প্রতিবেদক।
