মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকায় একই রাতে একযোগে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চোরের প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। বাজারের মূল পয়েন্টে ঘটা এই দুঃসাহসিক ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের মাঝে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
একই রাতে একাধিক প্রতিষ্ঠানে এভাবে চোরের সিঁধ কেটে প্রবেশের ঘটনায় পুরো এলাকার রাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা, নৈশ প্রহরীদের দায়িত্বশীলতা এবং পুলিশের নিয়মিত টহলের কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে মহম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘বিসমিল্লাহ মর্ডান ইলেকট্রনিকস’ (স্বত্বাধিকারী আজিজ), ‘ওষান ফার্মেসি’ (স্বত্বাধিকারী হারুন), ‘রহমত এন্টারপ্রাইজ’ (স্বত্বাধিকারী লুৎফার) এবং ‘আলিফ মেশিনারিজ’ (স্বত্বাধিকারী মুক্তার)—এই চারটি সুপরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চোরচক্র অতি সুকৌশলে প্রবেশ করে।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতকারীরা মূলত ক্যাশবাক্সে রক্ষিত নগদ টাকা চুরির উদ্দেশ্যেই সেখানে হানা দিয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো প্রতিষ্ঠানেই নগদ অর্থ না পাওয়ায় এবং কোনো মালামাল খোয়া না যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে মালামাল চুরি না হলেও বাজারের প্রাণকেন্দ্রে পরপর চারটি প্রতিষ্ঠানে চোরের এমন অবাধ যাতায়াত ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, বাসস্ট্যান্ডের মতো একটি কৌশলগত ও ব্যস্ততম পয়েন্টে যেখানে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা থাকে, সেখানে এমন ঘটনা ঘটে গেল কিন্তু নাইট গার্ড বা প্রহরীরা কিছুই টের পেলেন না কেন?
স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ ক্ষোভের সাথে জানান, কোটি কোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় অনতিবিলম্বে রাতের নৈশ প্রহরা জোরদার করা, নিয়মিত পুলিশি টহল নিশ্চিত করা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার আওতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সাথে ঘটনার পেছনের মূল চক্রকে সিসিটিভি ফুটেজ বা অনুসন্ধানের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনি আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা, মহম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড বাণিজ্যিক এলাকার সার্বিক স্বাভাবিকতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ছবি প্রতিবেদক।
