মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরার শালিখা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গিয়ে হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ‘দৈনিক গ্রামের কাগজ’ পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীর ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে গভীর অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল পাঁচটার দিকে শালিখা উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এই হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকের ভাষ্যমতে, সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুই পক্ষের অনুসারীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে আসছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এবং যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী ওয়াদুদ বিশ্বাসের মধ্যে শতখালী বাজারে প্রথম কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই উভয় পক্ষের অনুসারী ও সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ ধারণ করছিলেন। এ সময় মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তাঁর সমর্থকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে আশপাশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মিল্টন মুন্সি বলেন, সার ডিলারশিপ পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ফেসবুকে পাল্টা স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করেই বৃহস্পতিবার বিকেলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
হামলা প্রসঙ্গে মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. গোলাম জাহিদ হোসেন স্পষ্ট করেন যে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক আগের কমিটির সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান কমিটিতে তিনি নেই। তবে একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের ওপর এভাবে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নেসা সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে জানান, জসীম উদ্দীন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি আপাতত আশঙ্কামুক্ত।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, পেশাগত কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবহিত হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহের সময় স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এই নগ্ন হস্তক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন শালিখায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। জড়িত অপরাধীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ছবি সংগৃহীত।
