স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা মোড়ের আলোচিত ‘নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’-এ আবারও ভেজাল ও পচা-বাসি খাদ্যপণ্য বিক্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ কেক, বিস্কুট এবং ভুয়া স্টিকারযুক্ত বিদেশি সামগ্রীর ভয়াবহ জালিয়াতি ধরা পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিনব্যাপী শহরের দড়াটানা মোড়ে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযান সূত্রে প্রকাশ, নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সরেজমিনে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ প্যাকেটজাত কেক ও বিস্কুট বিক্রি করতে দেখা যায়। এছাড়া বিক্রি করা অধিকাংশ খাদ্যপণ্যে উৎপাদন বা মেয়াদের কোনো তারিখ মুদ্রিত ছিল না। এমনকি ‘ইমপোর্টেড’ বা বিদেশি পণ্য বলে চড়া দামে বিক্রি করা একাধিক প্রসাধনী ও খাদ্যসামগ্রীর বোতল ও প্যাকেটে আমদানিকারক সংক্রান্ত কোনো বৈধ সিল বা ট্যাগ পাওয়া যায়নি। ফলে এসব পণ্য আসল বিদেশি নাকি স্থানীয় কোনো নকল কারখানায় তৈরি—তা যাচাইয়ের কোনো উপায় ছিল না।
যৌথ এই অভিযানে মূল নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান। আভিযানিক টিমে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যশোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এবং জেলা পুলিশের একদল চৌকস সদস্য।
ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ ও অনিয়মের সার্বিক অপরাধ স্বীকার করায় সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মালিককে নগদ ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। সেই সাথে পরবর্তীতে মানসম্মত পণ্য পরিবেশন এবং ভোক্তা অধিকার আইনের শতভাগ পরিপালন করার জন্য তাঁকে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই আলোচিত এই নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে ক্রয়কৃত ‘ডিম প্যাটিস’ খেয়ে একটি পরিবারের দুটি ফুটফুটে শিশু মারাত্মক ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ভোক্তা অধিকার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে পুরো যশোর জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো।
অভিযান শেষে স্থানীয় সচেতন ভোক্তারা দাবি জানান, নামীদামী এই ডিপার্টমেন্টাল স্টোরটি বারবার সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। শুধু নামমাত্র জরিমানা না করে জনস্বার্থে এ ধরনের অসাধু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি তুলেছেন শহরবাসী। ছবি সংগৃহীত।

