বাগেরহাট প্রতিনিধি:
মানুষের বায়োমেট্রিক তথ্য বা আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ক্লোন করে অবৈধভাবে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির সিম অ্যাক্টিভ ও চড়া দামে অপরাধীদের কাছে বিক্রির অপরাধে এক অভিনব জালিয়াতি চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২:২৫ মিনিটে বাগেরহাট সদর মডেল থানাধীন কার্তিকদিয়া গ্রামে এক গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— কার্তিকদিয়া গ্রামের মোঃ মামুন আলী খাঁ (৩০), মোঃ জিহাদ বিশ্বাস (২৩) এবং মোঃ লিটু বিশ্বাস ওরফে বাবু (২২)।
বিজ্ঞাপন
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে কার্তিকদিয়া গ্রামে মামুন আলী খাঁ-এর নিজ বাড়িতে গোপন আস্তানা গেড়ে সাধারণ মানুষের অজান্তে সংগৃহীত ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষ রাবারের কিট ও সিলিকন পেপারে ক্লোন করে আসছিল। পরবর্তীতে বায়োমেট্রিক স্ক্যানার ও বিশেষ অ্যাপসের মাধ্যমে ওই ক্লোন করা আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করে বেআইনিভাবে বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানির সিম সচল (অ্যাক্টিভ) করা হতো। এসব ভুয়া নিবন্ধিত সিম পরে সাইবার অপরাধী, বিকাশ/রকেট প্রতারক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হতো।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ১টি বায়োমেট্রিক ফিঙ্গার স্ক্যানার মেশিন, ৪টি ইউএসবি পোর্ট, সচল করার অপেক্ষায় থাকা গ্রামীণফোনের ২১টি অব্যবহৃত ইনঅ্যাক্টিভ সিম কার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছাপ সম্বলিত ১৪১টি রাবারের তৈরি বিশেষ কিট, প্লাস্টিকের ওপর বায়োমেট্রিক ছাপ দেওয়া ৬টি স্ট্রিপ, ১টি কাগজের মার্কিং টেপ এবং সিম অ্যাক্টিভেশনের কাজে ব্যবহৃত অ্যাপস (Smart BL, Cockpit) সম্বলিত ৩টি আধুনিক স্মার্টফোন (Infinix Smart 10, OPPO A77, OPPO APH1909) জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ। ছবি সংগৃহীত।

