স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক ওমানপ্রবাসীর বাড়িতে হানা দিয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর মাকে (৩৮) সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরা শুধু পাশবিক নির্যাতনিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, ঘর থেকে টাকা-পয়সা লুট করার পর ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টাও চালিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার এক নিভৃত প্রবাসীর বাড়িতে এই ভীতিকর ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে শরীফ মিয়া (২৩) ও আরিফ মিয়াসহ (২১) পাঁচজন যুবক প্রবাসীর ঘরের সামনে গিয়ে পানের জন্য পানি চায়। প্রবাসীর কিশোর ছেলে দরজায় আসামাত্রই তার গলায় ধারালো দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করা হয়। এরপর বালকটিকে ভয় দেখিয়ে পুরো ঘরজুড়ে তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। আলমারি ভেঙে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য গচ্ছিত নগদ ৫ লাখ টাকা এবং প্রায় কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয় তারা।
বিজ্ঞাপন
লুটপাটের পর সশস্ত্র যুবকদের দুজন ওই নারীকে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন করে। এ সময় রাজীব (২৩) নামের এক যুবক মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে। গৃহবধূকে হুমকি দেওয়া হয়, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা না দিলে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে দেওয়া হবে।
দুর্বৃত্তরা স্থান ত্যাগ করার পর গৃহবধূ ও তাঁর ছেলের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং গফরগাঁও থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গভীর রাতে অভিযান শুরু করে এবং রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ১ কিলোমিটার দূরের এক নির্জন স্থান থেকে অভিযুক্ত রাজীবকে ধরে ফেলে। পুলিশকে দেখে রাজীব ভিডিও ধারণ করা মোবাইলটি পুকুরে ছুড়ে ফেললেও ডুবুরি ও পুলিশের তৎপরতায় তা উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী নারীর দেবর গণমাধ্যমকে জানান, বড় মেয়ের বিয়ের পর ছোট ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকতেন তাঁর ভাবি। ভাতিজাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস জানান, “পাঁচজনের বিরুদ্ধে জিম্মি, লুটপাট ও নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজনকে আলামতসহ আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অপরাধীদের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ একাধিক চৌকস টিম মাঠে কাজ করছে।”
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি।
