দোকানে ডেকে নিয়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা : পুলিশি বাধার মুখেই অভিযুক্তের ঘর গুড়িয়ে দিল জনতা

দোকানে ডেকে নিয়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা : পুলিশি বাধার মুখেই অভিযুক্তের ঘর গুড়িয়ে দিল জনতা

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

পাবনায় ১০ বছরের নিষ্পাপ শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার জেরে মূল অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাসভবনে দুই দফায় হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) হাতঘড়ি মেপে সন্ধ্যার দিকে এবং পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়াসহ নিকটস্থ কয়েকটি গ্রামের শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ একত্রিত হয়ে এই হামলা চালায়। এ সময় তারা অভিযুক্তের বাড়ির অবকাঠামো ও আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বিক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশে ঘটনাস্থলে প্রচুর জনসমাগম ঘটে। সেখানে পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও উত্তেজিত জনতার তুলনামূলক অনুপাতে সংখ্যায় কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ঠেকানো সম্ভব হয়নি। তবে পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পটভূমি থেকে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হুট করেই নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তাঁর কোনো দিশা পাননি।

অবশেষে নিখোঁজের সুদীর্ঘ ৭ দিন পর, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কুলুনিয়া এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবারের বসতঘরের লাগোয়া একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির পচাগলা লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক তথ্য। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত শিশুর প্রতিবেশী দোকানদার মোস্তফা প্রামাণিক ও তার কিসমত ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে পুলিশ তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। ঘটনার দিন কৌশলে ডেকে নিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের গোপন ঘরে শিশু কলিকে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের এই বীভৎস অপরাধ ঢাকতে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার শিকার পরিবার ও এলাকাবাসী ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে এখনো উত্তাল রয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *