কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খাবার পাঠাতে সামান্য বিলম্ব হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তাঁরই নারী সহকারীকে বেধড়ক মারধর ও জখম করার চরম অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বেসরকারি ‘ম্যাক্স হাসপাতাল’ প্রাঙ্গণে এ অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সহকারী লামিয়াকে (২৪) উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডাঃ তাসলিমা ফেরদৌসী রিমা। তিনি উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী লামিয়া জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে ডাক্তার রিমার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে বিশ্বস্ততার সাথে চাকরি করে আসছেন। মঙ্গলবার রাতে উক্ত চিকিৎসক তাঁকে তিনটি মোগলাই কিনে অতি দ্রুত তাঁর বাসায় পাঠানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে লামিয়া কালবিলম্ব না করে দোকান থেকে মোগলাই কিনে ডাক্তারের ব্যক্তিগত গাড়িচালকের হাতে তুলে দেন। তবে চালক পৌঁছাতে দেরি করায় চরম ক্ষিপ্ত হন ডাক্তার রিমা।
লামিয়া আরও অভিযোগ করেন, মোগলাই পাঠাতে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি চালকের দেরির কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডাক্তার রিমা টেবিলের ওপর থাকা ভারী কাচের ‘ওয়েট পেপার’ তাঁর বুক লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন। এরপর একে একে হাতের কাছে থাকা মোবাইল ফোন, লেখার হার্ডবোর্ড দিয়ে আঘাত করার পর সবশেষে জুতা খুলে তাঁর মাথা ও শরীরজুড়ে এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকেন। ইতিপূর্বেও এই চিকিৎসক একাধিক কর্মচারী ও রোগীর সাথে চরম অসদাচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহত সহকারীর স্বামী আলাউদ্দিন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, কাচের ওয়েট পেপারের সরাসরি আঘাতে তাঁর স্ত্রীর বুকে মারাত্মক চোট লেগেছে এবং মাথায় আঘাতের ফলে সে একাধিকবার বমি করেছে। একজন শিক্ষিত চিকিৎসক কীভাবে একজন সহকারীর ওপর এতটা অমানবিক নির্যাতন চালাতে পারেন, তা ভেবে আকুল হচ্ছেন তিনি। একই সাথে তিনি উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও নিয়মিত দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার সময় স্থানীয় সাংবাদিকেরা অনুসন্ধানে গেলে অভিযুক্ত ডাক্তার তাসলিমা ফেরদৌসী রিমা মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি কেবল তাঁর স্টাফকে সামান্য ‘শাসন’ করেছেন। একই সময় উক্ত চিকিৎসকের বাবা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে নিজের ছবি দেখিয়ে সংবাদকর্মীদের নানাভাবে ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ প্রসঙ্গে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং জানান, বিষয়টি তিনি অবহিত হয়েছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
অন্যদিকে কলাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার বা অভিযোগ পেলে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি প্রতিবেদক।

