বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খাবারের নাস্তা পাঠাতে সামান্য বিলম্ব হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেসরকারি হাসপাতালের এক নারী কর্মীকে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে বেধড়ক মারধর, শ্লীলতাহানি ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করার অভিযোগে এক নারী চিকিৎসকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী কর্মী লামিয়ার (২৬) স্বামী মো. আলাউদ্দিন বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— কলাপাড়া পৌর শহরের ‘ম্যাক্স হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর নারী চিকিৎসক ডা. তাসলিমা ফেরদৌসী রিমা (৩৫), উক্ত হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচালক মো. নাহিদ ইসলাম (৩৫) এবং সাবিনা আক্তার (৩৩)।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় ম্যাক্স হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত অবস্থায় চিকিৎসক তাসলিমা ফেরদৌসী রিমার জন্য বাইরে থেকে তিনটি মোগলাই পরোটা কিনে দেন কর্মচারী লামিয়া। খাবারটি গাড়িচালক আবু বক্করের মাধ্যমে ডাক্তারের বাসায় পাঠাতে সামান্য বিলম্ব হয়। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ডা. রিমা কর্মীর ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
এজাহারে আরও গুরুতর অভিযোগ করে বলা হয়, একপর্যায়ে ওই চিকিৎসকের অফিসকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে লামিয়াকে চুলের মুঠি ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, টেবিলের ওপর থাকা ভারী পেপারওয়েট ও শক্ত রাইটিং বোর্ড ছুড়ে মারার পাশাপাশি পা থেকে জুতা খুলে নিয়ে তাঁর মাথা ও শরীরজুড়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হওয়াসহ বুকের ডান পাশে গুরুতর আঘাত লাগে। নির্যাতনের পাশাপাশি লামিয়ার সঙ্গে থাকা স্মার্টফোনটি ভাঙচুর এবং শারীরিক শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে শারীরিক নির্যাতনের খবর পেয়ে স্বামী মো. আলাউদ্দিন দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে থানায় নিয়মিত মামলা বা এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।
