বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিজ বসতঘরে বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া মাত্র ১০ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের বস্তাবন্দী গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের দীর্ঘ দুই দিন পর শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে খাল থেকে শিশুটির লাশ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশু রাইয়ান ওই গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল খানের ছেলে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে রাসেল খান তাঁর শিশু সন্তান রাইয়ানকে পাশে নিয়ে ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই সময় তাঁর স্ত্রী রুমানা বেগম ঘরের বাইরে গৃহস্থালির লেপাপোছা ও ঝাড়ামোছার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটের দিকে রাসেল ঘুম থেকে জেগে তাঁদের ঘরে স্ত্রীর বোনের স্বামী (ভায়রা) আলআমিনকে দেখতে পান এবং পুনরায় ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু এর কিছু সময় পর জেগে উঠে দেখেন শিশু রাইয়ান পাশে নেই।
পরিবারের দাবি, পূর্ব শত্রুতা ও পারিবারিক কলহের জেরে ভায়রা আলআমিন ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু রাইয়ানকে কোলে তুলে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
এই নৃশংস ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযুক্ত আলআমিনসহ অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত শিশুর মা রুমানা বেগম। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই গত বৃহস্পতিবার দুপুরেই পুলিশ অভিযুক্ত আলআমিনকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে শনিবার দুপুরে ঘুটাবাছা গ্রামের আলআমিনের বসতবাড়ি সংলগ্ন খালে একটি বস্তা ভেসে ওঠে এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে খাল থেকে বস্তাটি উদ্ধার করে ভেতর থেকে শিশু রাইয়ানের লাশ উদ্ধার করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের দুদিন পর আলআমিনের বাড়ির পাশের খাল থেকে পচাগলা অবস্থায় শিশুটির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের চিহ্নিত করতে আইনি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ছবি প্রতিবেদক।
