প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মা’কে খুন করলো মেয়ে!

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মা’কে খুন করলো মেয়ে!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে চূড়ান্তভাবে ফাঁসাতে নিজের জন্মদাত্রী মাকে নির্মমভাবে হত্যা করানোর এক শিউরে ওঠার মতো সত্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দীর্ঘ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে দেখা গেছে, ওই হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং বাদী চাম্পা খাতুন নিজেই ঘটনার প্রধান অপরাধী।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ ২০২৩ তারিখে করিমগঞ্জ উপজেলার একটি নির্জন পতিত জমি থেকে হালিমা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার কাদা ও মাটিতে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে মরদেহের নাক-মুখে সুনির্দিষ্ট রক্তাক্ত জখম এবং গলায় শক্ত সাদা রশি প্যাঁচানো অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনার পর নিহতের আপন মেয়ে চাম্পা (৪৮) বাদী হয়ে প্রতিবেশী ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১২, তারিখ: ১৪/০৩/২০২৩) দায়ের করেন। মামলা রুজুর দুই দিনের মাথায় ১৭ মার্চ ২০২৩ তারিখে পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে সংস্থাটির পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল আলম এ মামলার তদন্ত পরিচালনা করছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তদন্তকারী কর্মকর্তা সংগৃহীত যাবতীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য ও সূক্ষ্ম বিবরণ বিশ্লেষণ করে বাদী চাম্পার আচার-আচরণে গভীর সন্দেহ পোষণ করেন। এরই ভিত্তিতে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকা থেকে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে চাম্পা স্বীকার করেন যে, দীর্ঘদিনের শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ও প্রতিশোধ নিতে সহযোগীদের সহায়তায় তিনি নিজ মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করিয়েছেন। পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন তিনি।

পিবিআই-এর তদন্ত ও চাম্পার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সূত্রে প্রকাশ, প্রায় তিন দশক আগে নিহতা হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ বসতবাড়ির জমি ক্রয় করার দাবি করলেও তাঁর কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা দলিল ছিল না। এই জমিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রক্তক্ষয়ী মারামারি, ধর্ষণ মামলাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা গড়ায়। এমনকি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৫ দিন আগেও একটি তীব্র মারামারির ঘটনায় জখম হয়ে হালিমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

প্রতিপক্ষকে পাকাপোক্তভাবে শায়েস্তা করতে ও জেলে পাঠাতে চাম্পা তাঁর মাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এই সুদূরপ্রসারী নকশা আঁকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৩ মার্চ ২০২৩ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ‘সমঝোতার কথা’ বলে চাম্পার নিয়োজিত দুই সহযোগী হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং হত্যা সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে পূর্বপরিকল্পনা মাফিক চাম্পা নিজে বাদী হয়ে উল্টো প্রতিবেশী বিল্লালসহ প্রতিপক্ষের নামে হত্যা মামলা ঠুকে দেন।

পিবিআই জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা কিংবা ইন্ধন রয়েছে কিনা তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ আইনি তদন্ত কার্যক্রম জোরদারভাবে অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *