স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বাঘারপাড়ায় বহুল আলোচিত ২ নম্বর বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল হাসান (৩৯) নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট ক্লু উন্মোচন ও এজাহারনামীয় প্রধান ৩ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে আসামীদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসমূহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যশোরের খাজুরা পুলিশ ক্যাম্প ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি যৌথ চৌকস দল দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
বিজ্ঞাপন
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই (নিঃ) মো. ফিরোজ হোসেন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যশোরের এসআই (নিঃ) মো. সালাউদ্দিন খানের নেতৃত্বে যৌথ আভিযানিক দল গোপন তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মো. রাব্বি হোসেন (২০) ও ৪ নম্বর আসামি মো. আসিফ হোসেনকে (২০) গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মামলার ২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মো. মারুফ হোসেনকে (২৩) আইনের আওতায় আনা হয়।
গ্রেফতারের পর আসামীদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি ধারালো বার্মিজ চাকু এবং ১টি ছোট আকৃতির চাপাতি আলামত হিসেবে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। গ্রেফতারের পর ৪ নম্বর আসামি মো. আসিফ হোসেন আদালতে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জবানবন্দি প্রদান করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— বাঘারপাড়া উপজেলার তেলিধান্যপুর এলাকার মো. আব্দুর রউফ মোল্যার দুই ছেলে মো. রাব্বি হোসেন (২০) ও মো. মারুফ হোসেন (২৩) এবং যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার মুনসেফপুর এলাকার আমিনুর বিশ্বাসের ছেলে মো. আসিফ হোসেন (২০)।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাঘারপাড়া থানাধীন খাজুরা তেল পাম্পের পাশে যশোর-মগুরা মহাসড়কের ওপর প্রকাশ্যে যুবদল নেতা রুবেল হাসানকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় বাঘারপাড়া থানায় মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামীদের ধরতে তৎপর ছিল পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতার ও ঘটনার পেছনের মূল কারণ অনুসন্ধানে পুলিশের তদন্ত ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

