স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার ১২ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সুজন হোসেন নামের এক ব্যক্তির তোলা ‘জমি দখল ও উচ্ছেদের’ অভিযোগকে একপেশে, জালিয়াতিপূর্ণ ও পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বি.এম. এলোম হোসেন রানা।
বিজ্ঞাপন
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে যশোরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বি.এম. এলোম হোসেন রানা স্পষ্ট করেন, সুজন ও তার পরিবারের সাথে জমি সংক্রান্ত সৃষ্ট বিরোধ মেটাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বায়নাপত্রের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একাধিকবার নিরপেক্ষ সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সুজন শর্ত মেনে নিলেও পরবর্তীতে অসৎ উদ্দেশ্যে পুনরায় অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে নতুন করে বিরোধের জিলিপি তৈরি করেন।
বিএনপি নেতা রানা অভিযোগ করে বলেন, “মূলত সুজন ও তার সঙ্গীরা কতিপয় প্রকৃত ওয়ারিশ ও অংশীদারকে তাদের পৈতৃক বসতভিটা ও ন্যায্য প্রাপ্য জমি থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চালিয়ে আসছেন। এমনকি বাটোয়ারা বা বণ্টন না হওয়া যৌথ জমি সুকৌশলে অনাত্মীয় ও বহিরাগতদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে এলে এতিম ও বিধবাদের স্বার্থ রক্ষায় আমি সালিশদার হিসেবে জমিতে সীমানা দেওয়ার বেআইনি কাজ বন্ধ রাখতে বলি এবং বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, উক্ত বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক কাটতে আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং সংশ্লিষ্ট জায়গার ওপর ১৪৪ ধারা (অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা) জারি করা হয়। কিন্তু সেই আইনি নিষেধাজ্ঞা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সুজন গং সীমানা প্রাচীর তুলতে গেলে এতিম-বিধবা হনুফা বেগম ও তার সন্তানদের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে রক্তক্ষয়ী মারামারির ঘটনাও ঘটে।
এলোম হোসেন রানার দাবি, সুজন নিজের অপরাধ, প্রতারণা ও হামলা ধামাচাপা দিতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে সমগ্র ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু প্রশাসনিক তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
উক্ত প্রতিবাদী সংবাদ সম্মেলনে বি.এম. এলোম হোসেন রানার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবার সদস্য মোহাম্মদ হোসেন আলী, আলী আকবর, আলমগীর হোসেন, মিলন হোসেন, রুবেল হোসেন, রায়হান হোসেন, গোলাম নবী ও ভুক্তভোগী বিধবা হনুফা বেগম। ছবি সংগৃহীত।


