আদালতের নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা!

আদালতের নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা!

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু ,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পর্যটন নগরী কুয়াকাটার অদূরে পরিবেশ সংবেদনশীল গঙ্গামতি লেকের পাশেই সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে অবাধে তোলা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাই মার্কেটের পশ্চিম দিকে প্রাকৃতিক জলাশয় ও সংরক্ষিত বনের কোলঘেঁষে এই স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। গত চার দিন ধরে প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে এই কর্মকাণ্ড চললেও স্থানীয় বনবিভাগ কিংবা ভূমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ প্রাকৃতিক জলাশয় ও লেক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাকৃতিক জলাশয় ও লেকের ঠিক পাশেই কাঠ ও খুঁটি পুঁতে একটি বিশাল স্থাপনা দাঁড় করানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে খুঁটি বসিয়ে কাঠের পাটাতন তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবুজ ম্যানগ্রোভ বনের সাথে ঘেঁষে এমন বিতর্কিত ও ধ্বংসাত্মক স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কারা বা কী উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করছে, সে বিষয়েও মুখ খুলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে জনশ্রুতি রয়েছে, এলাকার প্রভাবশালী তিন ব্যক্তির যোগসাজশে ও আশ্রয়ে এই অবৈধ নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনিক বাঁধা এড়াতে তাদের আগাম প্রস্তুতির খবরও পাওয়া গেছে।

পরিবেশ ও পর্যটন এলাকা সুরক্ষায় কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুরবন, খাজুরা থেকে শুরু করে গঙ্গামতি হয়ে কাউয়ার চর পর্যন্ত বেরীবাধের বাইরে যেকোনো ধরনের স্থাপনা তোলার ওপর উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম জানান, গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল একটি অত্যন্ত পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা। এখানকার সংরক্ষিত ও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ভেতরে কিংবা প্রাকৃতিক জলাশয় ও লেকের আশপাশে কোনো ধরনের স্থাপনা গড়ে তোলা হলে তা পুরো এলাকার সার্বিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করবে। বনাঞ্চল ধ্বংসের শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষায় উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর আইনি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে বনবিভাগের গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, কাজের প্রথম দিনই তিনি সরেজমিনে গিয়ে স্থাপনা নির্মাণে বাঁধা দিয়েছিলেন। তবে নির্মাণকারীরা জায়গাটিকে নিজেদের ব্যক্তিগত জমি দাবি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ওই সংবেদনশীল এলাকায় স্থাপনা তুলতে বনবিভাগ বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো বৈধ ছাড়পত্র রয়েছে কিনা, তা তিনি স্পষ্ট করতে পারেননি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইয়াসীন সাদেক জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, পরিবেশ সংবেদনশীল এমন সংরক্ষিত এলাকায় যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বনবিভাগের পূর্ব অনুমতি ও ছাড়পত্র আবশ্যক। সব আইনি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে চালানো এই পরিবেশবিনাশী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করা না গেলে বিশ্বখ্যাত কুয়াকাটার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্যের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। ছবি প্রতিবেদক।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *