স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) শাখায় কর্মরত হিসাবরক্ষক মো. সেলিম রেজাকে অমানবিক মারধর করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং তার পরিবারের কাছে ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী সেলিম রেজা, যিনি যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম রেজা জানান, তিনি বিগত প্রায় দুই বছর ধরে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর শাখায় হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, শাখার গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি আদায় না হলেও প্রধান কার্যালয় থেকে তাকে তা আদায় হিসেবে দেখানোর জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হতো। পরবর্তী সময়ে অনাদায়ী টাকা জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা মাঠপর্যায়ে আটকে থাকায় একপর্যায়ে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধের জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
সেলিম রেজার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মো. বদরুল আলম, এমআইএস কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ, ডিজি মো. মেহেদী হাসান, অডিট পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, এইচআর কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ সাকিসহ অডিট বিভাগের কয়েকজন কর্মী ও বহিরাগত ৪ থেকে ৫ জন তাকে অনাদায়ী টাকা পরিশোধের জন্য জিম্মি করেন। তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে টাকা আদায় করে দেওয়ার কথা বললে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মারধরের ভয়াবহ বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, একপর্যায়ে তার দুই হাত পেছনে বেঁধে কাঠের চেলা দিয়ে পায়ের পাতায় ৬০ থেকে ৭০টি তীব্র আঘাত করা হয়। প্রাণভয়ে তিনি টাকা পরিশোধের স্বীকৃতি দিয়ে তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এর মধ্যে একটি স্ট্যাম্পে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা লিখে নেওয়া হয় এবং অন্য দুটি স্ট্যাম্প ফাঁকা রেখে স্বাক্ষর আদায় করা হয়। এ সময় জোরপূর্বক তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয় এবং আটকে রেখে তার পরিবারকে ফোন করে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তরা একটি মাইক্রোবাস যোগে সেলিম রেজার চৌগাছার গ্রামের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে তার বাবা মো. হায়দার আলী ও চাচাদের অফিসে তুলে নিয়ে আসা হয়। পরে দুই মাসের মধ্যে ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারসংবলিত আরেকটি ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সেই সময় সেলিম রেজাকে অন্য একটি কক্ষে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে তিনি কৌশল অবলম্বন করে অফিস থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যরা তাকে চৌগাছা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকের ছাড়পত্র নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন।
সেলিম রেজা আরো অভিযোগ করেন, তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, এর কাগজপত্র ও চাবি, মোবাইল ফোন এবং মূল শিক্ষাগত সনদপত্রগুলো এনজিও কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে এসব মালামাল এবং জোরপূর্বক নেওয়া স্ট্যাম্পগুলো ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এনজিওর নিবন্ধন বাতিলের জন্য প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।
