স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বরিশাল নগরীতে পারিবারিক ও দাম্পত্য কোন্দলের জেরে নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরের বাইরে তালা আটকে সটকে পড়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে মহানগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনি এলাকার এক ভাড়া বাড়ি থেকে নিহত ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত নুরুজ্জামান হাওলাদার মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশাগত জীবনে বরিশাল জজ আদালতের এক আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং কর্মস্থলের সুবাদে স্ত্রী নাসিমা বেগমকে নিয়ে উক্ত বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় অধিবাসীদের তথ্যানুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়াদিক কেন্দ্র করে নুরুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী নাসিমার মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বাকবিতণ্ডা চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ চরমে পৌঁছালে স্ত্রী শক্ত বা ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে নুরুজ্জামানের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং প্রতিবেশীদের চোখ ফাঁকি দিতে ঘরের মূল দরজায় বাইর থেকে তালা ঝুলিয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন অভিযুক্ত নারী।
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নুরুজ্জামানের ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। সকালে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, নিহতের মরদেহে একাধিক আঘাতের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় আইনি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেপ্তারসহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

