স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব ও আকর্ষণীয় মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎকারী এক সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ৮টার দিকে সিআইডির একটি চৌকস দল কিশোরগঞ্জ জেলা সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দামপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মোঃ জুলহাস উদ্দিন (৩৯) এবং করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর গ্রামের রেনু মিয়ার ছেলে প্রহড় (২৮)।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মেহেদি হক নিয়ন (৪৯)-কে গত বছরের ২৪ আগস্ট টেলিগ্রামের মাধ্যমে ‘Zales জুয়েলারী’ নামক প্রতিষ্ঠানে চাকরির লোভনীয় প্রস্তাব দেয় এই চক্রটি। বাদী উক্ত প্রতিষ্ঠানের তথাকথিত ওয়েবসাইটে কাজ করতে আগ্রহী হলে চতুর প্রতারক চক্রটি একটি ফিশিং লিংকের মাধ্যমে তাঁকে ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করে। প্রথমে অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে সহজ কমিশন দেওয়ার কথা বলা হয় এবং পরবর্তীতে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় টাকা বিনিয়োগ নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে বাদীকে ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করার শর্ত দিয়ে আইডিতে কাল্পনিক মুনাফা দেখানো হয়। তবে প্রদর্শিত ওই মুনাফার টাকা তুলতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা জমা দিতে বলা হয়। চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে বাদী বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দফায় দফায় টাকা পাঠান। এভাবে চতুর চক্রটি বাদীর কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় বাদী পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০২, তারিখ-০৩/০১/২০২৬ খ্রি.)।
সিআইডি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করার পর ডিজিটাল ফরেনসিক ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে শুরু করে। দীর্ঘ তদন্তে এই আন্তর্জাতিক ধাঁচের সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের ১২ জন সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মোঃ জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী আসামি প্রহড়কেও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য মূল হোতাদের ধরতে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

