স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
জাল-জালিয়াতি, জালিয়াতিমূলক ব্যাংকিং লেনদেন ও প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ প্রদান করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
পরোয়ানা জারি হওয়া অপর আসামিরা হলেন— ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর অব ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান (ভারতীয় নাগরিক) এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাজেদুল হক।
বিজ্ঞাপন
মামলা ও আদালত সূত্র জানায়, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি)-এর স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গত বছরের ৩ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলা দুটি দায়ের করেন। ২০২২ সালের ২৩ জুন পান্ডামার্টের সাথে চুক্তি অনুযায়ী তিনি ফলমূল ও সবজি সরবরাহ করে আসছিলেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শুরুতে পাওনা পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে আসামিরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন। বাদীর ১ লাখ টাকার কেনাকাটার অর্ডারের বিপরীতে ব্যাংকে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকার মতো নগণ্য পরিমাণ অর্থ জমা দিয়ে জালিয়াতি করা হতো। এছাড়া ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার ও একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আটকে রেখে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
গুলশান থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালত তা আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
অন্যদিকে, ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ডেলিভারি হিরো স্টোরস’ দাবি করেছে, এটি একটি সাধারণ বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক বিরোধ। বশির নিজের ব্যবসায়িক দায় এড়াতে এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হয়রানি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করে, ইতিপূর্বে পুলিশি তদন্তের প্রতিবেদনে তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের কোনো প্রমাণ মেলেনি। দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আইনি প্রক্রিয়াতেই সত্য উন্মোচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানটি। ছবি সংগৃহীত।

