স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে নিজ হাসপাতালের বাইরে অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্ত পরীক্ষা ও এন্ডোস্কপি করিয়ে আনায় আসমা চৌধুরী (৪৮) নামের এক নারী রোগীকে চরম অপমান, হুমকি-ধমকি এবং মুখের ওপর চিকিৎসার ফাইল ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত অধ্যাপক ডা. মোঃ আকমত আলী (দিপু) (বিএমডিসি রেজি নং: এ-২৭৬৪) ঢাকা আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং যশোরের কুইন্স হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের চেম্বার চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চিকিৎসকের এমন অপেশাদার ও উগ্র আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আইনি প্রতিকার চেয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী জানা গেছে, যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার বাসিন্দা আসমা চৌধুরী শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কুইন্স হাসপাতালে ডা. আকমত আলীর চেম্বারে যান। তখন ৭০০ টাকা ভিজিট প্রদান করলে ওই চিকিৎসক তাঁকে কিছু শারীরিক পরীক্ষা ও এন্ডোস্কপি করার পরামর্শ দেন।
বিজ্ঞাপন
যেহেতু তিনি একজন নারী এবং এন্ডোস্কপির মতো সংবেদনশীল পরীক্ষাটি একজন নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে করাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেহেতু তিনি কুইন্স হাসপাতালে না করিয়ে কাছের ‘ইবনে সিনা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ গিয়ে নারী ডাক্তারের মাধ্যমে পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে রিপোর্ট নিয়ে কুইন্স হাসপাতালে ডা. আকমত আলীর চেম্বারে যান তিনি। ইবনে সিনা থেকে পরীক্ষা করানোর বিষয়টি দেখেই চরম চটে যান ওই চিকিৎসক। ভুক্তভোগীর দাবি, ডাক্তার অত্যন্ত বদমেজাজি ভাষায় চিৎকার শুরু করেন, কুইন্স ছাড়া অন্য কোথাও থেকে কেন রিপোর্ট করা হলো তা নিয়ে ধমকাতে থাকেন এবং টেস্টের ফলাফলকে ভুল অ্যাখ্যা দিয়ে সমস্ত কাগজপত্র তাঁর মুখের ওপর ছুড়ে মারেন।
ভুক্তভোগী আসমা চৌধুরী একজন হৃদরোগী হওয়ায় ওই চিকিৎসকের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও রূঢ় আচরণে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, অন্যান্য নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্ট দেখানোর ক্ষেত্রে নতুন করে ভিজিট না লাগলেও ডা. আকমত আলী জোরপূর্বক পুনরায় আরও ৭০০ টাকা ফি আদায় করেন এবং পূর্বের সব রিপোর্ট বাতিল ঘোষণা করে কুইন্স হাসপাতাল থেকেই নতুন করে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন।
চিকিৎসা পেশার চরম অবমূল্যায়ন এবং নারী রোগীকে হয়রানির বিচার চেয়ে তিনি কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। সরকারি ছুটি থাকায় সাথে সাথে সিভিল সার্জন ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) যেতে না পারলেও আগামী রবিবার সিভিল সার্জন ও বিএমডিসি বরাবর আলাদা লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন আসমা চৌধুরী।
এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অধ্যাপক ডা. মোঃ আকমত আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যস্ততা ও রোগী দেখার অজুহাতে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, ‘একজন নারী রোগীর ওপর অপেশাদার আচরণের একটি স্পর্শকাতর অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ ছবি সংগৃহীত।

