স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে চুম্বকের বিশেষ কৌশলে ইয়াবা পাচারকালে মোঃ আবুল কালাম (৫০) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয়, বগুড়া।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বগুড়ার শাজাহানপুর থানাধীন নয়মাইল জামালপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোঃ আবুল কালাম। তিনি কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার জোয়ারিয়া নালা গ্রামের মোঃ বক্তার আলী ও ওমদা খাতুনের ছেলে।
বিজ্ঞাপন
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, দূরপাল্লার বাসে চুম্বকীয় বিশেষ কায়দায় মাদকের একটি চালান পাচার হচ্ছে। খবর পেয়ে ডিএনসি বগুড়ার উপপরিচালক মোহা: জিললুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের নয়মাইল জামালপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় ঢাকা থেকে রংপুরগামী ‘অরিন ট্রাভেলস’ (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৩৯২০) নামের একটি যাত্রীবাহী কোচ থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
বাসের ‘F-1’ নম্বর সিটে বসে থাকা যাত্রী আবুল কালামের দেহ তল্লাশি করে একটি স্কচটেপে পেঁচানো চুম্বকের টুকরা এবং কালো স্কচটেপে মোড়ানো ৪টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলো থেকে সর্বমোট ৭৭৫ পিস কমলা বর্ণের অ্যাম্পেটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়, যার মোট ওজন ৭৭.৫ গ্রাম। এছাড়া তাঁর কাছ থেকে বাসের ‘F-1’ সিটের টিকিট, একটি রেডমি নোট ১৪ প্রো অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি সিম্ফনি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ আসলাম আলী মন্ডল বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটিতে সংশোধিত আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
ডিএনসি জানায়, কক্সবাজার থেকে আনা এই চালানের সাথে আন্তঃজেলা মাদক চক্রের অন্য কারা জড়িত রয়েছে তা অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।
