মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খন্দকার সুলতান আহমেদ চাঞ্চল্যকর ও নির্মম হত্যা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল বিশ্বাসকে ১৩ বছর পর গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) রাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি চঞ্চল বিশ্বাস ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার জহর বিশ্বাসের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও ঝিনাইদহ সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আখতার হোসেন মিনা জানান, নিহত ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদের জেলা পুলিশ লাইন্সের সামনে একটি গ্রিলের দোকান ছিল। এর পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি ব্যবসাও পরিচালনা করতেন। চুয়াডাঙ্গার একটি ঠিকাদারি কাজের বকেয়া পাওনা টাকাকড়ি নিয়ে আসামি চঞ্চলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।
বিজ্ঞাপন
উক্ত শত্রুতার জের ধরে ২০১৩ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় চঞ্চল মোবাইলে ফোন করে সুলতানকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন ৩০ জুন সকালে উপজেলার উদয়পুর গ্রামের মাঠ থেকে সুলতানের বস্তাবন্দি ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামি চঞ্চল চম্পট দেয় এবং দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে পলাতক থাকে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত শেষে চঞ্চল ও জাহাঙ্গীর আলম নামের দুইজনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ১৭ জুন আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। তবে আসামিপক্ষ মামলাটির বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখতে উচ্চ আদালতে আবেদন করলে আদালত স্থগিতাদেশ দেয়। দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর গত মাসে উচ্চ আদালত থেকে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলার পুনঃতদন্তের ভার সিআইডিকে ন্যস্ত করেন আদালত।
সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আখতার হোসেন মিনা আরও জানান, তদন্তভার গ্রহণের পর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামি চঞ্চলের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা হয়। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নিজের আসল পরিচয় গোপন রাখতে ‘সুজা বিশ্বাস’ নাম ধারণ করে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়ার আলম মার্কেট এলাকায় গোপনে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে সিআইডি নিশ্চিত করেছে। গ্রেফতারকৃত চঞ্চলকে ঝিনাইদহ সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটির অধিকতর তদন্ত চলছে এবং এতে নতুন কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদনে তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি। ছবি সংগৃহীত।

